মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দল ও সরকার থেকে অযোগ্য ও ফেইকদের বিদায় দিন....প্লিজ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দল ও সরকার থেকে অযোগ্য ও ফেইকদের বিদায় দিন....প্লিজ

 শাহাব উদ্দিন চঞ্চল: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বাধীনতা থেকে আজ আপনার কাছে বিনীত নিবেদন। প্রিয় নেত্রী, সুবিধাবাদী ও ফেইক নেতারা আমাদের দলে এবং সরকারে আছেন আপনি ভাল করে জানেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগাররা আপনার সঠিক-বেঠিক সব সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন, কেউ কখনো এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করেনি। এখন দেশের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাচ্ছে। এই মর্মে শুধু দলের কর্মী হিসাবে নয়, এ দেশের একজন গর্বিত নাগরিক হিসাবে আপনার কাছে অনুরোধ করছি। আপনার কাছে চাওয়া-পাওয়ার বিন্দুমাত্র কিছু নাই। এ দেশে জন্ম নিয়েছি বলে লিখছি, মা-কে যতটুকু ভালোবাসি, দেশকেও মায়ের মত ভালোবাসি। যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি, দেশের কঠিন সময়ে সাধ্যমত দেশের জন্য কাজ করেছি, আজও করছি দেশ ও বিশ্ব ভয়াবহ সংকটে। এই সংকট মোকাবেলা করতে আপনার বিভিন্ন পদক্ষেপের সাথে ঐক্যমত পোষণ করলেও কিছু বিষয় চোখের সামনে যখন ভেসে উঠে অন্ততঃ সেগুলো আপনাকে জানিয়ে দিতে বিবেক বড় তাগিত দিচ্ছে।
যদিও এই বিষয়গুলো আপনার জানা আছে, তারপরও বিভিন্ন কারণে এর প্রতিকার করা সম্ভব হয়নি। করোনার এই ভয়াবহ অবস্থায় মিডিয়ায় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের যোগ্যতার বিষয়টি দেশ-বিদেশের লোক দেখছেন এবং নেতাদের নিয়ে হাসছেন। এখানে আপনাকে প্রশংসা করে আপনার কাছে অতিরিক্ত প্রিয়পাত্র হবার জন্য নয়, করোনা মোকিবিলায় দেশের প্রেক্ষাপট এবং অবস্থান থেকে যতটুকু পদক্ষেপ নিয়েছেন সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের নেতা এবং সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সচিব, প্রেস-সচিবদের কথাবার্তা মোটেই সুস্থ নয়। face is the index of mind. মানুষের মুখের দিকে তাকালে মনের খবর বুঝা যায়। আগেই বলেছি আপনাকে খুশি করতে নয়-আপনার কথা বলা এবং মুখ দেখলে সাধারণ মানুষ বুঝে আপনি কি উদ্দেশ্যে কি বলছেন। শুধু আপনার কথা নয়, কথা এবং মুখচ্ছবি দেখে আপনার মনের খবর প্রকাশ পায়, এতে মানুষ আশ্বস্ত হয়, আপনি দেশের জন্য কত আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।  
প্রিয় নেত্রী আমি কারো প্রতি হিংসা পরায়ণ বশতঃ লিখছি না- আমাদের দলে এখন ব্যবসায়ী, অনুপ্রেবেশকারী, সুবিধাবাদী, চামচা এবং অতিরিক্ত তোসামোদকারীরা বেশির ভাগই রাজনীতি করছেন, এমপি-মন্ত্রীও হয়েছেন। সরকারের মধ্যে একজন মন্ত্রী কি আছেন এই মন্ত্রিসভায় যে তার নিজের বুদ্ধিতে কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বা দিতে পেরেছেন বা দিয়েছেন? দেশের শতভাগ মানুষকে এ কথাটি বললে সবাই এক বাক্যে হয়তো বলবেন, একজনও নেই। সবাই আপনাকে ভয় করেন এবং ফ্লাটারিং করেন আপনাকে সহাযোগিতা করার মত যোগ্যতা নেই, আপনি মন্ত্রী বানিয়েছেন, তিনারা মন্ত্রী হওয়ার পরই ব্যস্ত হয়ে গেছেন আপনাকে তোসামোদ করতে এবং তার নিজের পক্ষের চামচারা ব্যস্ত মন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের তোসামোদী করে তাদের আখের গোঁছাতে। দেশ এবং জাতির মঙ্গলের জন্য সঠিক কোনো চিন্তা করার ক্ষমতা এই সব মন্ত্রীদের মাথায় নাই। বরং তারা অতিরিক্ত ফেইক কথা বলে অর্জনগুলো নষ্ট করেন, তাদের কথা শুনে দুনিয়া হাসে।
করোনা মোকাবেলায় ডাক্তার বা স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনের মতামত জরুরি, সচিবরা কে কোন মতলব নিয়ে মন্ত্রীদের সাথে কথা বলেন মন্ত্রীরা তা জানেন না এবং আপনার কাছে সাহস করে কেউ আসল সত্য বলেনও না। এই করোনা'র সময়ও সচিবগণ মন্ত্রী এবং স্টাফদের সুবিধার বিষয়টি নিয়েই ব্যস্ত, কোনো একটা সুস্থ পরিকল্পনা নেই বা কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন না। আসল সমস্যা কি তা তারা বুঝেনও না, আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক না বেঠিক তাও বুঝেন না। আপনার যদি কোনো বেঠিক সিদ্ধান্ত হয় তার বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা নাই যদি মন্ত্রিত্ব হারিয়ে যায় এই ভয়ে, তাদের কোনো সৎসাহস নেই। কেউই দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করছে না। যে লোকদের নিজের কোনো ব্যক্তিত্ব নেই সৎসাহস নেই তারা এদেশের মন্ত্রণালয় চালাবে কেমনে? আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক বা সঠিক নয় এবিষয়ে তারা কিছু বলবে না। অথচ মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আপনার যদি ভুল কিছু হয় তা ধরিয়ে দেবার মত এই মন্ত্রিসভায় কেউ নেই, সাহস করে আপনাকে বলবেন না যদি আপনি মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেন।
করোনার ক্রান্তিকালে সবকিছুই ক্রিস্টল ক্লিয়ার হয়ে গেছে। সচিবালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সব সুবিধাবাদী ফেইকরা এখন চিহ্নিত হয়ে গেছে। আপনার কাছে আসল সংবাদ পৌঁছে না, আপনার ধারে কাছে অনেক লোক আছেন, তারা আসল সংবাদ আপনার কাছে পৌঁছান না, এতে তাদের ডিসক্রেডিট হবে বলে। আসল দেশপ্রমিক আর ভালো মানুষের বিরুদ্ধে সর্বদা কথা বলে আপনাকে কনফিউজ করার তালে থাকেন বেশী। গণভবনের ধারে কাছে যারা থাকেন অল্পদিনে তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক কেমনে হয়ে যান। যে কোনো রাজনৈতিক দলের বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতাদের কথাবার্তা চিন্তাধারা আর ২ যুগ আগের ইউনিয়নের নেতাদের কথাবার্তা আর চিন্তাধারার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আবার বর্তমানে ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাবভঙ্গি চলন-বলন সবই মাস্তানের মত। এরা যে কি রাজনীতি করেন আল্লাহ মালুম, মনে হয় অন্য কোনো গ্রহ থেকে আসছেন। এই করোনা মহামারীতে অসহায় অর্ধমৃত লাশের মুখের ভাত যখন রাজনৈতিক নেতারা চুরি করতে পারে তখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না দেশে সুস্থ রাজনীতি নাই অসুস্থরাই রাজনীতি কন্টোল করে।  
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-দুনিয়ার এই ক্রান্তিকালে বাংলাদেশের চরিত্রহীন লোভী দুর্নীতিবাজ আদর্শহীন অমানুষদের একমাত্র আপনিই পারবেন শায়েস্তা করতে। যারা এই সব অসুস্থ রাজনীতির ধারক বাহক এমপি, মন্ত্রী, সচিব, নেতা এবং তাদের হুমড়া চোমড়াদের রাজনীতি এবং ফেইক দেশসেবা থেকে তাদের দয়া করে অবসরে পাঠাতে বিনীতি নিবেদন করছি। এদের বিষয়ে যত কঠিন সিদ্ধান্ত নিবেন আল্লাহ আপনার সহায় থাকবেন জনগণ দলমত নির্বিশেষে আপনাকে সমর্থন করবে। তা-হলে দেশে বাঁচবে রাজনীতি, বাঁচবে ভালো মানুষ আবার রাজনীতি আসবে। দেশের জন্য সত্য ন্যায্য কঠিন সিদ্ধান্ত এখন আপনার হাতে, এই মহামারীতে শুধু দলের লোক নয়, আপনার অপছন্দের লোকরাও এখন আপনার পক্ষে কথা বলছেন। কারণ আপনার চেহারা প্রমাণ দিচ্ছে এই কঠিন সময়ে আপনি দেশকে যতটুকু দিতে পারবেন অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হবে না, দেশের দুর্যোগ মোকাবেলা করতে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন অত্যান্ত জরুরি তা সবাই অনুধাবন করছেন। অথচ মন্ত্রী, সুবিধাবাদী নেতা আর আমলারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করছেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী "এক কথায়" এদের সরিয়ে দিন প্লিজ।
লেখক : লন্ডন প্রবাসী রাজনীতিক সাংবাদিক।