সৌদি আরবে করোনায় আতংকিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা

সৌদি আরবে করোনায় আতংকিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা

মোহাম্মদ ফিরোজ, সৌদি আরব: বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে কারণে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশির মাঝে করোনা আতংক দিনে পর দিন বেড়েই চলছে। একদিকে কর্মহীনতা আর লকডাউন অন্যদিকে বাংলাদেশ অবস্থান রত প্রবাসীদের পরিবারের অবস্থা বিবেচনা করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে প্রতি নিয়ত। এই পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি মূত্যবরণ করেছে পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত ৪০ জন বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবে করোনা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সৌদি আরবে তারাবীহ নামাজ পড়ে ভোরে সেহেরি খেয়ে পবিত্র রমজান মাস শুরু করে সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, রমজান উপলক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য জারিকৃতকারফিউ শিথিল করেছে সৌদি সরকার।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাস জুড়ে, সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মানুষজন, বাহিরে গিয়ে কেনাকাটা করতে পারবে, তবে নিজ এলাকার ভিতরে।
বৈশ্বিক মহামারি, করোনা পরিস্থিতির কারণে, হারামাইন শরিফাইন তথা মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে এ বছর তারাবির নামাজ দশ রাকাত পড়া হবে। এছাড়া আরও বেশ কিছু নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের একদিকে করোনা আতংক অন্যদিকে দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থায় জীবন যাপন সব মিলিয়ে দূর্বিসহ জীবন যাপন করছে বলে জানা প্রবাসী নজরুল ইসলাম, তিনি বলেন দেশে অবস্থানরত পরিবারের কথা চিন্ত করে আমিও দিনের পর দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছি। আমি টাকা না পাঠাতে পারলে আমার পরিবার না খেয়ে রাস্তায় আসবে। একদিকে চাকরি নাই অন্যদিকে পরিবারের চিন্তায় দূর্বিসহ জীবন যাপন করছি।
আরেক প্রবাসী জসীমউদ্দীন বলেন, আমরা সৌদি আরবে হারেজ চৌয়ারিতে (হকার মার্কেটে) দৈনিক বেতনে কাজ করি কিন্তু সৌদি আরবে কারফিউ ও লকডাউন ঘোষণার পর থেকে মার্কেট বন্ধ থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি অনাহারে জীবন যাপন করছি। কিছু সাহায্য পেলেও তা পরিমাণে সামান্য।
রমজানে সৌদিতে এইভাবে কারফিউর ও লকডাউন চলতে থাকলে গৃহবন্দি থাকা মানুষগুলো আর্থিক সংকটের পাশাপাশি আরও কঠিনতর ও দূর্বিসহ জীবন যাপন করতে হবে মনে করছেন প্রবাসীরা।
প্রসঙ্গত আজ সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১৫৮জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৯৩০জন। মারা গেছে ৭জন, এই নিয়ে দেশটিতে মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছেন ১২১জনে। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ১১৩জন, দেশটিতে সর্বমোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৯২৫জন।