নিজেকে ও সবাইকে সুস্থ রাখতে ঘরে বসে থাকার বিকল্প নাই

নিজেকে ও সবাইকে সুস্থ রাখতে ঘরে বসে থাকার বিকল্প নাই

আরিক সুবহানা, ফেইসবুক পাতা থেকে: করোনা পরিস্থিতিতে নিজেকে ও সবাইকে সুস্থ রাখতে ঘরে বসে থাকার বিকল্প নাই। তারপরেও যদি অনিবার্য কারণ বশত বাইরে যেতেই হয়, তাহলে বাইরে থেকে ফিরে কী করা উচিৎ তা লিখার চেষ্টা করলাম। এছাড়া বাজার থেকে ফিরলে কী করা উচিৎ সেটাও লিখেছি। অনেকেই হয়তো জানেন আমার মা ( Dr. Munira Jahan) একজন ভাইরোলজিস্ট। এক্ষেত্রে তিনি নিজে যা করেন ও করতে বলেন, তা-ই গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি৷ 
বাইরে থেকে ফিরে কী করবো?
একান্ত প্রয়োজনে যদি বাইরে যেতেই হয় তবে ফেরার আগেই বাড়ির লোককে ফোনে জানিয়ে রাখবেন যাতে কেউ একজন দরজা খুলে রাখে। এতে আপনার হাত দিয়ে কলিংবেল বা দরজা ধরতে হবে না, হাত থেকে ভাইরাসও এসব জায়গায় ছড়াবে না। আপনার নিজের কাছে হেক্সিসল বা ৭০% আইসোপ্রোপানল সমৃদ্ধ যেকোনো মিশ্রণ অথবা সাবান পানির মিশ্রণ না থাকলে বাড়ির লোককে আগেই বলবেন যাতে দরজার বাহিরে তা রেখে দেয়। এরপর বাড়ির বাহিরে থেকেই জুতা খুলে ফেলবেন এবং উল্লেখিত যেকোনো একটি মিশ্রণ দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন।
এরপর আপনার সাথে থাকা ব্যাগ, মোবাইল, চাবি, চশমা ইত্যাদি আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র পরিষ্কারক মিশ্রণটিতে ভিজানো টিস্যু/ কাপড় দিয়ে সময় নিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলুন ও বাসার ভিতরে দিয়ে দিন। ঘড়ি, বেল্ট, আংটি, গহনা ইত্যাদি পরে বের না হওয়াই ভালো৷ মনে রাখবেন, যত কম জিনিস নিয়ে বের হবেন, জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়াও তত সহজ হবে৷ আপনি যদি একা বাসায় থাকেন তাহলে যেকোনো একটি পরিষ্কারক মিশ্রণ নিজের সাথেই রাখবেন এবং দরজা খোলার পর দরজার হাতল, চাবি ও অন্যান্য যেসব জায়গা স্পর্শ করেছেন, সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলবেন সাথে সাথে।
আনুষঙ্গিক সব জিনিস যথেষ্ট সময় নিয়ে নিশ্চিতভাবে জীবাণুমুক্ত করে বাসার ভিতরে রাখার পর নিজের হাত ও পায়ের পাতা তালুসহ পরিষ্কারক মিশ্রণটি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এরপর ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন এবং সরাসরি গোসলখানায় চলে যাবেন। এর আগে আর কোথাও বসা বা শোয়া যাবে না কিংবা শরীর স্পর্শও করানো যাবে না। কারণ আপনার জামাকাপড়ে জীবাণু লেগে থাকতে পারে এবং আপনি কোথাও বসলেই জীবাণু বাসায় ছড়িয়ে পড়বে। তাই যতই ক্লান্ত লাগুক না কেন, বাসায় ঢুকেই সরাসরি গোসলখানায় যাবেন।
বাসা থেকে বেরুবার আগেই ঘরে পরার কাপড়, গামছা, তোয়ালে, সাবান, শ্যাম্পু ইত্যাদি গোসলখানায় গুছিয়ে রাখবেন। এতে বাসায় ফিরেই আপনি সরাসরি গোসলে ঢুকতে পারবেন। গোসলখানায় ঢুকেই যে কাপড়গুলো পরে বেরিয়েছিলেন, তার সবগুলো সাবান দিয়ে ভালোমত ধুয়ে দিবেন। এরপর নিজে শাওয়ার নিবেন। এসময় ভালোমতো সারা শরীর সাবান দিয়ে ডলে ডলে পরিষ্কার করবেন। চুলও সাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে নেবেন। এখন আপনি নিজের ঘরে হাটা চলা বা শোয়া বসার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। উল্লেখ্য, পরিষ্কারকরণের এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে ভুলেও বাড়ির অন্য কোথাও যেমন স্পর্শ করবেন না, তেমনি নিজের নাক, চোখ, মুখেও স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকবেন৷ বাড়তি সতর্কতা হিসেবে গোসলখানায় ঢোকার আগে ঘরের যেই পথটুকু হেঁটে এসেছিলেন, তা জীবাণুনাশক মিশ্রণ দিয়ে মুছে নিবেন। 
 বাজার করে বাড়ি ফিরলে কী করবো?
যদি আপনি বাজার করে ফিরেন তাহলে উপরিউক্ত কাজগুলোর পাশাপাশি কিছু বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। এক্ষেত্রে ঘরে ঢোকার আগেই উপরে বর্ণিত উপায়ে বাজারের ব্যাগ পরিষ্কার করে নিবেন। ঘরে ঢুকে শাওয়ার নেওয়ার পর বাজার গুছাতে পারেন।  ফলমূল, শাকসবজি, ডিম ইত্যাদি সাবান পানিতে ভালোমতো ধুয়ে নিবেন। বিশেষ করে যেসব জিনিস রান্না ছাড়াই খাওয়া হয় (যেমন ফলমূল, টমেটো, শসা, লেবু, কাচামরিচ ইত্যাদি) সেগুলো অবশ্যই কিছুক্ষণ সাবান পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালোমতো ধুয়ে নিবেন। চাল-ডাল, মাছ-মুরগি ইত্যাদি সাবান দিয়ে না ধুলেও চলবে কারণ রান্নার সময়েই তাপে ভাইরাস মারা যায়৷ তবে রান্নার সময় এসব দ্রব্যাদি হাত দিয়ে ধরার পর হাত হেক্সিসল / স্যানিটাইজার / ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুয়ে নেবেন।
যদি শুকনো বাজার হয় যা কিনা সহজে নষ্ট হয় না, তা বাসায় এসে সাথে সাথেই গুছানোর দরকার নেই, ৫-৭ দিন পর গুছাতে পারেন। আশা করা যায় ৫-৭ দিন ওই সারফেসে ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারবে না। তবে যেকোনো বাজার যখনই গুছান না কেন, গুছানো হলে হাত ভালোমত হেক্সিসল বা স্যানিটাইজার বা ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে নেবেন৷ হাত ধোয়ার আগে কোনোমতেই নাকে চোখে মুখে হাত দেওয়া যাবে না৷ এছাড়াও বাজার গুছানোর সময় সতর্ক থাকবেন যাতে হাত বাদে শরীরের অন্য কোথাও দ্রব্যাদির স্পর্শ না লাগে। স্পর্শ লেগে থাকলে ওই জায়গাটাও জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। বাজার গুছানো হলে, মেঝে বা টেবিল বা কিচেন ক্যাবিনেট-   যেখানে দ্রব্যাদি রাখা হয়েছিল তা সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।
আমি জানি পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ কিন্তু কিছু করার নেই। মনে রাখবেন, এটি একটি যুদ্ধ; ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে ধৈর্যহারা হলেই হারবেন। তাই সময়সাপেক্ষ হলেও ধৈর্য ধরে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন, নিজে নিরাপদ থাকুন, সবাইকে নিরাপদ রাখুন৷ আল্লাহ সহায় হোন আমাদের।