পুরনো রূপে ফিরেছে সিলেট, সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউ

পুরনো রূপে ফিরেছে সিলেট, সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউ

সেলিম হাসান কাওছার,সিলেট: লকডাউন সীমিত করে সরকারি অফিস খোলার ৫ম এবং গণপরিবহণ চালুর তৃতীয় দিনেই রূপে ফিরেছে চিরচেনা সিলেট শহর। সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কম হলেও সব ধরনের বিপুল পরিমাণ গাড়ি সড়কে চলাচল করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণের ভীতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সিলেট নগরীর অনেক সড়কেই যানজট দেখা গেছে। অপরদিকে সিলেটর বিভিন্ন প্রবেশপথেও যানজট লক্ষ্য করা গেছে। সিলেটের সড়কে গণপরিবহণ ছাড়াও ট্রাক লরি, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য দেখা গেছে। বলা যায় সব ধরনের যানবাহনই নগরীর সড়কে চলাচল করছে। যানবাহনের অধিক চাপে নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, লামাবাজার, শিবগঞ্জ, জেল রোড, মিরাবাজার, সুবহানীঘাট, নয়াসড়ক, কুমাড়পাড়া, তালতলা, কীনব্রিজ, সুবানিঘাটসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। তবে বাস টার্মিনালে যানযটের পরিমান অন্যান্য দিনের তুলনায় কম দেখা গেছে।
সিলেট ৫নং বারের আইনজীবী হোসাইনুর রহমান লায়েছ বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সিলেটে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বাড়ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখতে পারলে করোনায় সিলেটের অনেক ক্ষতি হতে পারে।
এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশাও বেড়েছে সিলেটের সড়কে। বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ফিরছে কর্মজীবী মানুষ। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে। শহরের ভেতরেও বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় দেখা গেছে। চলাচলকারীদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক থাকলেও বেশির ভাগের হ্যান্ডগøাভস নেই। করোনা থেকে রক্ষার সচেতনতার অভাবে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার বালাইও দেখা যায়নি। গণপরিবহন চালুর পর পরই সিলেট স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সিলেটমুখী সড়কে পুরো যানজট লেগে আছে। ধীরগতিতে চলছে এসব যানবাহন। দূরপাল্লার বাস ও গণপরিবহন ছাড়াও মহাসড়কে ইজিবাইকসহ সবই চলছে। যাত্রী পরিবহনকারী গাড়িগুলোতে শারীরিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। গাদাগাদি করে মানুষ চলাফেরা করছে। গাড়ি সামাল দিতে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশা চালক কবির আহমদ বলেন,কেউই সামাজিক দূরত্ব মানের না। আমরা মানিয়া লাভ কিতা।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন,সরকারের আইন কেউই মানছে না। সরকারের আইন না মানলে জনগনেরই ক্ষতি হবে।করোনাভাইরাসের পাদুর্ভাবের কারণে সংক্রমণ ঠেকাতে গণপরিবহণসহ প্রায় সবকিছু বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। সরকারি অফিস, ব্যাংক-বীমা চালু এবং সব ধরনের যানবাহনের চলাচল খুলে দেয়ার পর নির্বিঘ্নে মানুষ চলাচল করতে শুরু করে। ঘনবসতিপূর্ণ সিলেট নগরীতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। প্রচারণা চলছে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে সীমিত পর্যায়ে চলাফেরা করার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সিলেটে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বাড়ছে। যানজটের শহর সিলেট যেন আবার পুরনো রূপে ফিরছে। বুধবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২৩৮ জনের। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৬৮১জন।
এদিকে শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মঙ্গলবার বিকালে সিলেটের কদমতলীতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মামলায় অজ্ঞাতনামা পনেরশো’র অধিক লোকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ কারণে বাস টার্মিনালে যানযটের পরিমান অন্যান্য দিনের তুলনায় কম দেখা গেছে।