প্রবাসীদের চোখে ‘নতুন’ নিউইয়র্ক সিটি

প্রবাসীদের চোখে ‘নতুন’ নিউইয়র্ক সিটি

তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক থেকে: নিউইয়র্ক নগরী লকডাউন করা হয়েছিল ২০ মার্চ। দীর্ঘ ৮০দিন অবরুদ্ধ থাকার পর ৮ জুন নতুন করে খোলা হয়েছে নিউইয়র্ক নগরী। খুব দ্রুত নিঘুম ব্যস্ত নগরীর দিকে যাবে বলে আশা করছেন নগরবাসীরা। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এন্ডু কোমো মনে করছেন, খুব দ্রুত এই নগর সচল হয়ে উঠবে। এই প্রতিবেদনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের চোখে দেখা হয়েছে লকডাউন বিহীন নিউইয়র্ক সিটি দেখতে কেমন?
ব্রুকলিনে নেভি ইয়ার্ডে এক বক্তব্যে সিটি মেয়র বিল ডা ব্লাজিও বলেন, হাজার হাজার মানুষ কাজে ফিরেছে। সবাই সুরক্ষানীতি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে কাজ করলে আমরা খুব দ্রুত এই নগরী পুনর্নির্মাণ করতে পারবো।
নিউইয়র্ক নগরীর জ্যাগাইকাতে অবস্থিত কুইন্স হসপিটালের সহকারী নার্স সীমা সুস্মিতা বলেন, হাসপাতালে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা খুব নগণ্য। আমাদের ৯০ সিটের এই হাসপাতালে লকডাউনের আগে গড়ে ১১০ জন সাধারণ রোগী আসতেন। আজ অর্ধেক রোগী এসেছেন। সব কিছু স্বাভাবিক হতে শুরু হরেছে। করোনা সন্দেহে আজ এসেছেন মাত্র ৪ জন রোগী। বাইরে থেকে যে ডাক্তার-নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবাকর্মী এসেছিলেন আমাদের সহযোগিতা করতে, তারা ফিরে গেছেন। করোনা রোগী আসলে এখন স্বতন্ত্র আইসোলেসনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এলমাস্ট এলাকার অধিবাসী রত্না দাশ। তিনি লকডাউনের আগে ট্যাক্স ফাইলের কাজ করতেন। রত্না বলেন, আমাকে এখনো অফিস থেকে কাজের জন্য ডাকেনি। আমার স্বামী সুজন দত্ত কাজ করতেন ডাউন ম্যানহাটনের ভিজিটর নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সারা আমেরিকাজুড়ে বিক্ষোভ এবং করোনার কারণে এখনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়নি। তবে আমরা আজ বের হয়েছিলাম। আমার দুই বছরের ছেলে অদীপ্তের জন্য কিছু কেনাকাটা করার জন্য। জ্যাকসন হাইটসে ব্যাংকেও গিয়েছিলাম। সেখানে মানুষ আর মানুষ।
ব্রঞ্চ এলাকার একটি পার্লারের কর্ণধার কান্তা কাবির বলেন, নিউইয়র্কে দৈনিক মৃত্যুর হার ৫০ জনের নিচে নেমে এসেছে। দৈনিক সংক্রমণের হার ১০০ জনের নিচে নেমে এসেছে। যা নিউইয়র্কবাসীকে স্বস্তি দিচ্ছে। অতি সম্প্রতি নিউইয়র্ক গভর্নর এন্ডু কুমো রি-ওপেনিং ঘোষণা করেছেন। প্রথম ফেইসে অতি জরুরি সেবাসমূহ চালু করেছে। দ্বিতীয় ফেইসে স্বল্প জরুরি এবং নির্মাণ শিল্প ওপেন করেছে।
তিনি বলেন, আমি পেশায় একজন কসমিউটলোজিস্ট। যখন জানতে পারছিলাম নিউইয়র্ক সিটি অতি শিগগির চালু হতে যাচ্ছে, তখন খুবই আশাবাদী হচ্ছিলাম যে আমার বিউটি সেলুনটিও রি-ওপেনিং হবে। কিন্তু কিছু দিন আগে সিটি থেকে জানানো হলো, আপাতত পুরুষের সেলুন খোলা হবে। পার্লার কিছু দিন পরে খোলো হবে। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের সার্ভিসের নতুন নীতিমালা পেয়েছি। তারপরেও ভালো লাগছে আমরা আগের মতো আবদ্ধ নই।
কুইন্সের অধিবাসী ট্যাক্সি চালক রহিম উদ্দিন বলেন, এতদিন বাসায় থেকে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। জানতাম কাস্টমার পাবো না। তারপরেও বের হয়েছিলাম। পুরো নগরী ঘুরে ঘুরে দেখছি। এ যেন এখন নতুন নিউইয়র্ক। নগরীতে প্রচুর মানুষ কিন্তু কোনো কাস্টমার নেই। সন্ধ্যা হয়ে গেলে ট্যাক্সির ভাড়াও তুলতে পারি নাই। আরও যে কত দিন সময় লাগে সব কিছু স্বাভাবিক হতে তা কে জানে!
প্রথম ধাপে খুলছে নির্মাণকাজ, ম্যানুফ্যাকচারিং, দোকানের বাইরে থেকে মালামাল ওঠা-নামা ও খুচরা ব্যবসা। সব ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্বের নিয়মাবলী ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে। এদিকে বর্ণবাদ-বিরোধী আন্দোলনের কারণে জারি করা কারফিউ আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।