মালয়েশিয়ায় বেকার হাজার হাজার বাংলাদেশির মানবেতর জীবনযাপন

মালয়েশিয়ায় বেকার হাজার হাজার বাংলাদেশির মানবেতর জীবনযাপন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লকডাউন শেষ হলেও বৈধ-অবৈধ মিলে বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। ১০ জুন থেকে মালয়েশিয়ায় ১১টি ব্যবসা-বাণিজ্য বাদে সব চলছে আগের মতো। কিন্তু দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা সেদেশের বিভিন্ন কল-কারখানা, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন, হোটেল ও রেস্টুরেন্টের ব্যবসায় চলছে মন্দাভাব। যার কারণে বৈধ-অবৈধ হাজার হাজার বাংলাদেশি এখনও ছুটিতে অবস্থান করছে ঘরে। কোনো রকম হাওলাত করে পার করছে দিন। করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে টানা ৯ জুন পর্যন্ত চলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ। সেই বিধিনিষেধ শেষ করে ১০ জুুন থেকে মালয়েশিয়ায় ফিরেছে আগের মতো। কিন্তু সেদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভাগ্যের চাকা কবে খুলবে তারা জানেন না কেউ। সেদেশের হোটেলগুলোতে কর্মরত বেশিরভাগ বাংলাদেশি বেকার হয়ে পড়েছেন। ট্যুরিস্টদের কাছে জনপ্রিয় মালয়েশিয়ার হোটেল ব্যবসায় চলছে ব্যাপক মন্দাভাব। সেদেশে এখনও বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় হোটেলগুলোতে পর্যটকদের আগমন না থাকায় কর্মরত বাংলাদেশিদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সব থেকে বড় ধরনের বেকারত্ব মালয়েশিয়ার পাইকারি কাঁচাবাজার পাচার সেলাইয়াংয়ে। সেখানে কর্মরত কয়েক হাজার বাংলাদেশি এখনও বেকার। জীবনযাপন করছেন খুব কষ্টে। ওই বাজারে বিদেশিদের কাজকর্মের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসীদের শহর জহরবারু এবং পেনাংয়ের একই অবস্থা। বহু বাংলাদেশি বেকার হয়ে ঘরে অবস্থান করছেন। তবে সব থেকে বেশি সমস্যায় রয়েছে এজেন্টের নামে ভিসা করে যারা বিভিন্ন জায়গায় দিন হিসাবে শ্রম বিক্রি করতেন তাদের। ওইসব কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া খরচ বাঁচাতে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের
বাধ্যতামূলক ছুটি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে কথা হয় পাহাংয়ের কুয়ান্তানে হোটেলে কর্মরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে। নারায়ণগঞ্জের হালিম এই প্রতিবেদককে জানান, প্রায় তিন মাস ঘরে অবস্থান করার পর ভেবে ছিলাম ১০ জুন থেকে কাজে ফিরতে পারব। কিন্তু সেটা আর হচ্ছে না। দুয়েকজনকে কাজ দিয়ে কোনো রকম হোটেল খুলে মালিক ব্যবসা পরিচালনা করছে। যার কারণে আমরা আবারও বেকার অবস্থায় রয়ে গেলাম।
সরেজমিন দেখা যায়, এমসিসি ইস্ট মালয়েশিয়া এসডিএনবিএইচডির সাপ্লাইয়ার কোম্পানির সেরি সারডাং গোডাউনে পড়ে রয়েছেন ভুক্তভোগী প্রায় ৭০ বাংলাদেশি কর্মী। তারা জানান, বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি ইউনিক ইস্টার্ন, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, কাতারসিস, সানজারিনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া আসেন। মানুষের বসবাসের মতো ওই গোডাউনে নেই কোনো ব্যবস্থা। অপরিষ্কার ও নোঙরা পরিবেশ দেখলেই গা-শিউরে উঠবে। গাদাগাদি করে ৭০ বাংলাদেশি সেখানে রয়েছেন। সবার মুখে বিষণœতার ছাপ। কেউ ভয়ে কথা বলতে রাজি নন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, কী আর বলব ভাই। আপনি এসেছেন, কুশল বিনিময় করে চলে যান। সাপ্লাইয়ার কোম্পানির লোকজন রয়েছে। কিছু বললে আপনি যাওয়ার পরই আমাদের ওপর চলবে শারীরিক নির্যাতন। যারাই প্রতিবাদ করেছে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হয়েছে। প্রতিবাদ করায় কয়েকজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তারা কোথায় আছে, কেউ জানে না। এমনকি কোম্পানিও তাদের খোঁজ নেয় না। আমরা গোডাউনে পড়ে রয়েছি বেঁচে থাকার তাগিদে। এমন হাজারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে মালয়েশিয়া থেকে বিমান চলাচল শুরু হলে এসব বেকার অভিবাসী দেশে ফিরতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই