নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে মূলধারার কাজে অংশ নিতে আহবান

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে মূলধারার কাজে অংশ নিতে আহবান

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিকে মূলধারার কাজে আরো বেশি করে সম্পৃক্ত হবার আহবান জানিয়েছেন নিউইয়র্কের নব নির্বাচিত এস্টেট এসেম্মব্লিম্যান জোহরান মামদানি এবং নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর প্রতিনিধি ন্যান্সি প্যাসকাল । রবিবার জ্যাকসন হাইটসে নিউ ইয়র্ক মুসলিমস ফর সিভিক এঙ্গেজমেন্ট ( এন ওয়াই মিউস) ও আমাদের সাপোর্ট নেটওয়র্ক (এএসএন) এর বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ অনুষ্ঠানে তারা এই আহবান জানান। এসময় তারা আমেরিকার ২০২০ সালের আদমশুমারিতে ( সেন্সাস) বাংলাদেশি কমিউনিটিকে অংশ নিতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেন।
জ্যাকসন হাইটস ও এর আশেপাশের এলাকায় ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির মধ্যে সংগঠন দুটি দুই হাজারেরও বেশি মাস্ক বিতরণ করেন । তারা বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ফেডারেল সেন্সাস বা আমেরিকার জাতীয় আদমশুমারিতে অংশ নেয়া এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয়ার প্রস্তুতির জন্য ভোটার নিবন্ধন করতে আহবান জানান। নিউ ইয়র্কে বসবাসরত মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নাগরিক কাজে যুক্ত করার জন্য কাজ করে নিউ ইয়র্ক মুসলিমস ফর সিভিক এঙ্গেজমেন্ট ( এনওয়াইমিউস)। অন্যদিকে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে মূলধারার তথ্য সেবা মূলক কাজের লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে আমাদের সাপোর্ট নেটওয়র্ক (এএসএন)।
মাস্ক বিতরণের সময় নব নির্বাচিত এসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে তাঁর নির্বাচনে সাহায্য করায় বিশেষ ধন্যবাদ জানান। জোহরান বলেন -“নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি খুবই চমৎকার। আমি তাঁদের সহযোগিতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি মনে করি নিউ ইয়র্ক সিটি সচল রাখার জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি অন্যান্য কমিউনিটিকেও বাংলাদেশি কমিউনিটির মত বিশেষ ভূমিকা রাখার আহবান জানাই। আমি চাই বিশেষভাবে বাংলাদেশি কমিউনিটি আজকের মত আরো বেশি করে মুলধারার কাজের সাথে সম্পৃক্ত হোক”। এসময় উপস্থিত কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে কৃতজ্ঞতা জানান জোহরান। নিউ ইয়র্ক স্টেটে জোহরান মামদানি হবেন প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম এসেম্বলি ম্যান।
অনুষ্ঠানে ন্যান্সি প্যাসকাল বলেন – ‘ কোভিড এর সময়টা বাংলাদেশি কমিনুনিটিসহ অন্যান্য কমিউনিটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফেডারেল সেন্সাস বা আদমশুমারির জন্য এটা আরো বেশি জরুরী। আপনারা সবাই যদি সেন্সাসে অংশ নেন তাহলে আপনারা যে ট্যাক্সের টাকা দেন সেই টাকা আপনাদের কমিউনিটির জন্যই খরচ করা হবে। সেন্সাসে অংশ নিলে আপনাদের কমিউনিটি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পাবেন যারা বিভিন্ন ফোরামে আপনাদের সুবিধা, অসুবিধার কথা তুলে ধরতে পারবেন। প্রত্যেক কমিউনিটি সদস্যকে আদমশুমারির আওতায় নিয়ে আসতে নিউ ইয়র্ক সিটি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করছে। আমি আশা করবো আপনারা এতে সবাই অংশ নিবেন। এটা নিউ ইয়র্কার হিসেবে আমাদের সবার কর্তব্য কারণ আমরা সবাই এখানে বসবাস করছি”।
ন্যান্সি আরো বলেন -“ আপনারা যদি আপনাদের বাংলাভাষাকে নিউ ইয়র্ক সিটির কার্যকরী ভাষা করতে চান তাহলে আপনাদেরকে সেন্সাসে অংশ নিতে হবে। বাংলা কার্যকরী ভাষা হলে আপনারা আপনাদের ভাষায় নিউ ইয়র্ক সিটির সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন। আপনারা আদমশুমারির মধ্যে আসলে সিটি আপনাদের কথা শুনবে। আর আপনারাও তখন সিটি প্রশাসনকে বলতে পারবেন যে আপনাদের কি কি প্রয়োজন। কিন্তু আপনারা সেন্সাসে অংশ না নিলে সেটা সম্ভব হবে না আর আপনারা ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবন“।
অনুষ্ঠানে নির্বাচিত এসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানিসহ অতিথিবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেন আমাদের সাপোর্ট নেটওয়র্ক (এএসএন) এর সমন্বয়ক আশিক মাহমুদ। এসময় বক্তব্য রাখেন নিউ ইয়র্ক মুসলিমস ফর সিভিক এঙ্গেজমেন্ট ( এন ওয়াই মিউস) এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট মীর মাসুম আলী। সংগঠনটি নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে ফেডারেল নির্বাচন উপলক্ষে ৫০ হাজার ভোটার নিবন্ধনের চেষ্টা করছে। সংগঠনটি নিউ ইয়র্ক সিটি ও স্টেটে মুসলিম জনগোষ্ঠী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় করার কাজ করে।
মাস্ক বিতরণের সময় সৌজন্য অংশ নেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নিউ ইয়র্ক ডিসট্রিক্ট লিডার ও বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ এটর্নি মইন চৌধুরী এবং জেবিবিএর সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম। এসময় কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সমিতির উপদেস্টা এ.কে আজাদ তালুকদার , মো: রেজাউল করিম, রফিকুল ইসলাম জিয়া, সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন নাসির,বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন সবুজ, সৈয়দ মুরাদ রেজা, মো:মশিউর রহমান,ড:মিতুল মহিউদ্দিন, মো: খালেদ হোসেন, প্রফেসর সোলায়মান, মো:বদিউল আলম, মাসুদ হোসাইন, রেজবুল কবীর, আব্দুর রব, জাকির হোসেন লিটন, মো: মোহসিন ,রুবেল গাজী, আক্তারুজ্জামান প্রমূখ।