লন্ডনে ‘জগন্নাথপুর কালচারাল ফোরাম’র আত্মপ্রকাশ

লন্ডনে ‘জগন্নাথপুর কালচারাল ফোরাম’র আত্মপ্রকাশ

কমিউনিটি প্রতিবেদক:: ‘মানবিক সমাজের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন’- শীর্ষক স্লোগান সামনে রেখে গঠিত হয়েছে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জগন্নাথপুর উপজেলা কালচারেল ফোরাম’। সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় গীতিকার সৈয়দ দুলালকে সভাপতি করে গঠিত নতুন এই সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন রাধা রমনের জন্মস্থান জগন্নাথপুরের বিলেত প্রবাসী গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত শিল্পী, যন্ত্র শিল্পীসহ সংস্কৃতিসেবী  বিভিন্ন জন।
এ উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল রোডস্থ একটি রেষ্টুরেন্টে বসেছিলো সংস্কৃতিকর্মীদের মিলন মেলা। তাদের এই মেলায় উপস্থিত হয়েছিলেন রাজনীতিক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি একটিবিষ্টসহ অনেকেই।
বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা সিজিলুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও গীতিকার সৈয়দ দুলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘জগন্নাথপুর উপজেলা কালচারেল ফোরাম’ এর ভূমিষ্টকালীন এই মিলন মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজনীতিক, সুনামগন্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ আবুল কাশেম, সাংবাদিক, সত্যবাণী সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, বিলেতের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আলাউর রহমান ও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলার ও ডেপুটি মেয়র শহিদ আলী।
সংস্কৃতি কর্মীদের নতুন এই সংগঠন ‘জগন্নাথপুর উপজেলা কালচারেল ফোরাম’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর ঘোষনা দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে একসময় লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব গঠন করেছিলাম। আজ ব্রিটেনের সবচেয়ে পোস্টিজিয়াস ও দক্ষ সংগঠনে তা পরিণত হয়েছে। আজকে আপনারা যাঁরা এই মহতি উদ্যোগ নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কালচ্যারাল ফোরাম গঠন করেছেন, বীজ বপন করেছেন, একদিন তা ব্রিটেনে অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।’ এসময় তিনি নবগঠিত কমিটির ঘোষণাপত্র ও প্রথম কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নাম পাঠ করে শোনান সবাইকে।
রাজনীতিক সৈয়দ আবুল কাশেম গীতিকার সৈয়দ দুলালের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘দুলাল আমার পরম আত্মীয়! সে যখন লেখে, সব উজার করে লেখে। যখন গায়, প্রাণ খুলে গায়। এরকম একটি সংগঠনের দায়িত্ব যখন দুলাল -টুনু- বশররা নেন, এর মানে সাফল্য অবস্যম্ভাবী’।
বিশিষ্ট সাংবাদিক, সত্যবাণীর প্রধান সম্পাদক, সৈয়দ আনাস পাশা বলেন, সমাজ পরিবর্তনে সাংস্কৃ্তিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। গানে, কবিতা, নাটকের মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজের পক্ষে যেভাবে জনমত সংগ্রহ করা যায়, বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে সেটি খুব সহজে হয়ে উঠেনা। তিনি বলেন ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, অতীতে জাতীয় জীবনের প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে  আমাদের সাংস্কৃতিকর্মীরা তাদের মেধা দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে জাগরন সৃষ্টি করেছিলেন। যেহেতু নবগঠিত জগন্নাথপুর উপজেলা কালচারেল ফোরামের সদস্যরা সেই সংস্কৃতিকর্মীদেরই উত্তরসূরী, সেহেতু এই সংগঠনের উজ্জল ভবিষ্যত আমার চোখের সামনে ভাসে। দেরিতে হলেও আপনারা যাঁরা উদ্যোগ নিয়ে এটি গঠন করেছেন, তাঁদের প্রতি প্রাণঢালা অভিনন্দন’।
সাম্প্রতিক সময়ের নন্দিত সিনিয়র কন্ঠশিল্পী আলাউর রহমান বলেন, ‘জগন্নাথপুরের সন্তান মরমী কবি রাধারমন ধত্তের গান আজ আন্তর্জাতিক ভাবেও স্বীকৃত ও জনপ্রিয়। পশতুসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়ে তাঁর গান এখন গীত হচ্ছে’। তিনি মরমী কবি রাধারমনের স্মৃতিধন্য জগন্নাথপুরের সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে গঠিত ‘জগন্নাথপুর উপজেলা কালচারেল ফোরাম’-এর সাফল্য কামনা করেন তাঁর বক্তৃতায়।
সাবেক কাউন্সিলর ও ডেপুটি মেয়র, শাহীদ আলী বলেন, ‘সবকিছু তুচ্ছ করে এগিয়ে যেতে হবে। পেছনে কে কী বললো তা শোনার সময় নেই। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই আপনারা নিয়েছেন বলে আমি মনে করি’। তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, গীতি কবি আফসর খান, জগন্নাথ পুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন জুয়েল, সঙ্গীতানুরাগী সৈয়দ হাসন আলী, নাট্যাভিনেতা সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম, সঙ্গীতানুরাগী আনোয়ার খান, জগন্নাথপুর উপজেলার আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সঙ্গীতানুরাগী সৈয়দ তুহেল মিয়া,  ছাত্রনেতা সৈয়দ জামিল, ছড়াকার সৈয়দ হিলাল সাইফ, সৈয়দ হামজা ও সেলিম কোরেশী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মরমী সাধকের লীলাভূমি খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার অন্তর্গত জগন্নাথপুর উপজেলায় জন্ম নিয়েছেন অনেক জ্ঞানীগুণী, কবি, সাহিত্যিক ও মরমী কবিরা। মধ্যযুগের মরমী কবি সৈয়দ শাহ নুর ও রাধারমন ধত্তের কালজয়ী গান আজ দেশের গন্ডিপেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাঙালি ও বাংলা ভাষার সংস্কৃতিকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। তাদের কর্ম বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় হচ্ছে অনুবাদ।
তারা বলেন, তাঁদের আদর্শ ও অনুপ্রেরণায় যুগযুগ ধরে একই ধারায় তাঁদের সুযোগ্য উত্তরসূরীরা রচনা করে আসছেন গান ও গীতি কবিতা। সৈয়দ আসহর আলী, পীর মজির উদ্দীন, আছিম শাহ, নুরুল গনি, জব্বার শাহসহ নাম জানা না জানা আরো অনেক মরমী গীতিকবিদের পরবর্তী প্রজন্ম আজো সঙ্গীতাঙ্গনে দাপটের সাথে তাঁদের শেঁকড়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে লিখে এবং গেয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। দেশে বিদেশে পেয়েছেন পরিচিতি এবং খ্যাতি।
জগন্নাথপুর উপজেলা কালচ্যারাল ফোরাম যুক্তরাজ্য’ এর আত্মপ্রকাশ এইসব সংস্কৃতিকর্মীদের অনেকদিনের আকাংখা ও ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।অনুষ্ঠানে সর্ব সম্মতিক্রমে জননন্দিত গীতিকবি সৈয়দ দুলালকে সভাপতি, শাহ টুনু মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক এবং সংগীতানুরাগী আব্দুল খয়ের বসরকে কোষাধ্যক্ষ করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট নব গঠিত সংগঠনের দ্বি-বার্ষিক কার্যকরী কমিটি গঠিত হয় l প্রেস বিজ্ঞপ্তি