নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি

সকালে নিউজ, দুপরে উচ্ছেদ

সকালে নিউজ, দুপরে উচ্ছেদ

মো: ফাহাদ আহমদ,নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউপির অন্তর্ভুক্ত এশিয়ার বৃহত্তম বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের পেছনে অবস্থিত সরকারী আশ্রয়ণ (গুচ্ছ-গ্রাম) প্রকল্পের জাগায় অবৈধভাবে নির্মাণকৃত দোকানকোঠা নির্মাণ নিয়ে আজ সকালে সিলেটের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে শিরোনামে ' নবীগঞ্জে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার' একটি সংবাদ প্রকাশের তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনে। সংবাদটি প্রকাশের পর পরই দুপরের দিকে অবৈধ দোকানটি উচ্ছেদে যান ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।

বুধবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মবিনের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন স্থানীয় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো: রাসেল আহমদ।রাসেল আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, উপজেলার পারকুল গ্রামের মৃত সোনাফর মিয়ার ছেলে মুহিবুর রহমান সরকারী আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছে। কিন্তু তার পাওয়া ঘরের সীমানা ব্যতীত অন্যজাগায় একটি অবৈধ দোকান ঘর নির্মাণ করে। তাকে ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও সরায়নি। আজকে ঘটনাস্থলে এসে প্রশাসনিকভাবে ঘরটির উচ্ছেদ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুলাই আউশকান্দি ইউনিয়নের গুচ্ছ-গ্রাম প্রকল্পের বাসিন্দা নজিম উদ্দিনের স্ত্রী ছায়ারুন বেগমের ঘরের পাশে অবৈধভাবে এই দোনঘরটি নির্মান করেন মুহিবুর রহমান। এর পর একই দিনে ছায়ারুন বেগম এর প্রতিকার চেয়ে ইউপি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন (অভিযোগ নং-২০২০/৭৫)।

অভিযোগে বলা হয়- গুচ্ছ-গ্রাম প্রকল্পে সরকারী ঘর পাওয়া ছায়ারুন বেগমের ঘরের সামনে অভিযুক্ত মুহিবুর জোরপূর্বক অবৈধভাবে একটি দোকান ঘর স্থাপন করে। এতে অভিযোগকারী ছায়ারুন বাঁধা দিলে তাকে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে মুহিবুর। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলবার হুমকিও প্রদান করে। পরে ইউপি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছায়ারুন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুহিবুরকে ইউপি অফিসে তলব করা হয়। এতে উপস্থিত ইউপি সদস্যগণের সামনে মুহিবুর অবৈধভাবে স্থাপনকৃত দোকান তুলে নিবেন এবং ভবিষ্যতে একমর কার্যক্রম আর করবেনা বলে লিখিতভাবে মুচলেখা দেন। আর এই ঘটনাকে আড়াল করতেই তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করছেন।

আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন ও সদস্য দুলাল মিয়া বলেন, গত ১৯ জুলাই উপজেলার পারকুল গ্রামের মৃত সোনাফর মিয়ার ছেলে মুহিবুর রহমান নবীগঞ্জ থানায় ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেছেন, এগুলি মিথ্যা ও অপপ্রচার আর মানহানি করা ছাড় কিছু নয়।