প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে

ভারতীয় পণ্য, মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট জৈন্তাপুর

ভারতীয় পণ্য, মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট জৈন্তাপুর

ইমরান মাহমুদ,সিলেট: প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে থানা পুলিশ ও বিজিবির লাইন বাণিজ্যের মাধ্যমে জৈন্তাপুরে অবাধে ভারতীয় পণ্য, মদ, ইয়াবা, মোবাইল, মোটর সাইকেল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, টায়ার, ডাইপার, কসমেটিক্স, শিশু খাদ্য, ভারতীয় চা সহ ইত্যাদি চোরাই মাল ঢুকার তথ্য পাওয়া গেছে।জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি, গৌরিসংকর, লালাখাল, শাপলা বিল খ্যাত ডিবির হাওর ও নলজুরীর আমসপ্ন এলাকা দিয়ে দেদারসে ভারতীয় পণ্য, মাদক ও খাদ্যদ্রব্যাদি অবৈধ উপায়ে চোরাচালানের মাধ্যমে প্রতিদিন বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।সরকার ও বিরোধীয় দলীয় কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ছত্রছায়ায় পুলিশ ও বিজিবি-বিএসএফ এর লাইন বাণিজ্যের মধ্য দিয়ে জমজমাট এই ব্যবসা ও চোরাচালান অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল।
জানা গেছে, এই সকল রুট দিয়ে গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোরবেলা পর্যন্ত পিক আপ গাড়ী দিয়ে এই মালামালগুলো সীমান্ত থেকে চোরাকারবারি ও সিণ্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।ভারতীয় পণ্য, মাদক ও চোরাচালানের অন্যতম রুট জৈন্তাপুর এখন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।মাদক দ্রব্য ইয়াবা, ভারতীয় বিড়ি, ভারতীয় মোবাইল, ভারতীয় মোটর সাইকেল, গাড়ীর যন্ত্রাংশ, গাড়ির টায়ার, কসমেটিক দ্রব্যাদি, ডাইপার, শিশুখাদ্যসহ উল্লেখযোগ্য ইন্ডিয়ান জিনিসে সয়লাব সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর এলাকা।
প্রত্যক্ষদর্শী সৃত্র মতে, ভারতীয় চা ও চোরাই মাল জৈন্তাপুর বর্ডার দিয়ে গাড়ী গাড়ী ওপেন বাংলাদেশে ঢুকে থাকে।জানা গেছে, চায়ের গাড়ী জনৈক প্রভাবশালী সরকারদলীয় এক নেতার নামে প্রকাশ্যে প্রবেশ করে।তিনিই মোটর সাইকেল ও গাড়ির যন্ত্রাংশের হর্তাকর্তা। তিনি গ্রুপিং রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে উঠতি বয়সী ছেলে কর্মীদের দিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এজন্য থানা পুলিশ কে মোটর সাইকেল প্রতি নির্ধারিত অংকের টাকা উৎকোচ দেয়ার গোপন তথ্য পাওয়া গেছে।ভারতীয় মোটর সাইকেল চুরির নিরাপদ রুট ভারতের মুক্তাপুর সীমান্ত ও বাংলাদেশের আমসপ্ন ও ডিবিরহাওর।অপর দিকে মাদক, খাদ্য ও পণ্য চোরাচালান সিণ্ডিকেট ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপি’র এক প্রভাবশালী নেতা। উপজেলার হেমু গ্রামে চোরাই মালের নিরাপদ গোডাউন আছে বলে খবর পাওয়া গেছে।এছাড়া বাগেরখাল ও শামপুর গ্রামের বিভিন্ন বাড়ীতে চোরাইল মাল রাখা হয় বলে সুত্র জানিয়েছে।এই সকল চোরাকারবারীদের নিজস্ব গোয়েন্দা বিভাগ রয়েছে বলে জানা যায়।দীর্ঘ দিন থেকে উপজেলার হেমু গ্রামে কোন ফেরিওয়ালা প্রবেশ করতে পারে না। এলাকার নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানা যায়। চোরাচালান সিন্ডিকেট এর মুল হোতা ও এর সহযোগীদের বাড়ী এই এলাকায় থাকায় এলাকার সাধারণ জনগণ মুখ খুলতে নারাজ।
সূত্র মতে, এ সকল অপরাধ জৈন্তাপুরে ওপেন সেক্রেট।একদিকে ক্ষমতাসীন দলের পদবী ধারী বড় এক নেতা আর অন্য দিকে বিএনপি’র পদবী ধারী এক গ্যাং লিডার।অভিযোগ উঠেছে এ নেটওয়ার্ক এর সাথে পুলিশ ও বিজিবি জড়িত।তাদের যোগসাজশে কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে অবাধ চোরাচালান, ভারতীয় পণ্য ও মাদক এ দেশে ঢুকছে।স্থানীয় এলাকায় এটি ‘লাইন বাণিজ্য’ নামে পরিচিত। পুলিশ, বিজিবি লাইন ম্যানের মাধ্যমে টাকা পায়।থানা,সীমান্ত ফাড়ি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জড়িত না থাকলে এত অবাধে এই কাজ কেউ করতে পারবে না বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
সূত্র জানায়, মাঝে মধ্যে বিজিবি, পুলিশ চেকপোস্ট ও অভিযান চালালে মালামাল ধরা পড়লে এ সকল নেতারা তদবির করে মাল ছাড়িয়ে নেয়।মোকামপুন্জি মাদকের মেইনরোড।এ রাস্তা দিয়েই নিরাপদে মাদক সরবরাহ হচ্ছে বলে জানা যায়।জৈন্তাপুরে অপরাধ আর অপকর্ম বেড়ে যাওয়ার জন্য মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ এ ব্যবসাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।তারা মনে করেন মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটই আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।অনুসন্ধানে এমন ভয়ংকর তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ রকম কোন তথ্য যদি আপনাদের কাছে থেকে থাকে তাহলে লিখেন।আমার জানামতে কোন পুলিশ সদস্য জড়িত নয়। করোনার জন্য বর্ডারগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তারপরও এ রকম হতে পারে আমরা পুলিশ, বিজিবি নয়