সিরাজগঞ্জে যমুনা তীরে ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন হচ্ছে জনপদ

সিরাজগঞ্জে যমুনা তীরে  ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন হচ্ছে জনপদ

নজরুল ইসলাম,ঢাকা: ক্রমাগত বাড়তে থাকা পানির স্রোতে সিরাজগঞ্জের যমুনা তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বাড়িঘর। ঝুঁকিতে থাকা অন্য বাসিন্দারা মালামাল নিয়ে সরে যাচ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়ে।
শুক্রবার দুপুর থেকে সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী এলাকায় এ ভাঙন শুরু হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই একশ’র বেশি বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
ছোনগাছা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল আলম জানান, দুপুর থেকে হঠাৎ শুরু হয় ভাঙন। এ রকম নদী ভাঙন আগে কখনো দেখেননি। মুহূর্তের মধ্যেই শতাধিক বাড়ি-ঘর, মসজিদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন কবলিত বাড়ি-ঘরের মানুষগুলো জীবন বাঁচাতে আসবাবপত্র-ঘরবাড়ি এমনকি গবাদিপশু ফেলেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসেন। নদী ভাঙনের কারণে শত শত মানুষ গৃহহীন ও নিঃস্ব হয়ে গেল। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার অসীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর সাংবাদিকদের জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসায় রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, সিমলা স্পারের স্যাংক বাঁধটা ভেঙে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর যমুনার স্রোত ঘুরে সরাসরি বাঁধে আঘাত হানে। এ কারণে হঠাৎই ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভিত্তিতে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হবে। তবে পাউবোর অনেক কর্মকর্তারা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তড়িঘরি কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ১ জুন, সিমলা-পাঁচঠাকুরী স্পারের স্যাংক বাঁধটি প্রায় ৭০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বালুর বস্তা ফেলে কোনো রকমে বাঁধটি সংস্কার করা হলেও তিন সপ্তাহের মাথায় স্পারের মূল স্যাংকসহ অধিকাংশ এলাকা নদী গর্ভে চলে যায়। মূল স্পার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় স্যাংক বাঁধটি।