জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে

জৈন্তাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ

জৈন্তাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি,সিলেট: মুষলধারে প্রবল বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পা হাড়ি ঢলে জৈন্তাপুর উপজলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজারোও মানুষ। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত ঘরবাড়ি। পানিবন্দি অবস্থায় দিন যাপন করছেন অসহায় জনগণ। এছাড়াও প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট ।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সারী ও বড়গাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শ্রীপুর, রাংপানি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যার পানিতে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় জৈন্তাপুর উপজলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারুক আহমদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মানিক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করছেন।
তবে সরকারি ভাবে তেমন কোন ত্রাণ তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তবে বাক্তি উদ্যোগে শুকনো খাবার বিতরন করতে দেখা যায়। ৪র্থ বারের মত বন্যা হওয়ায় উপজেলার গ্রামীণ জনপদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে। প্রান্তিক কৃষক বিশেষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন । জানা গেছে, সরকারী ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দের জন্য প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। সুপ্রমতে,উপজলার ৫টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৮ শত ৭৫টি পরিবারের জনগন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলার উঁচু এলাকার ১৬টি স্কুলকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী, শেওলারটুক, বাওন হাওর, বাউরভাগ, লক্ষীপুর, বিরাইমারা, মুক্তাপুর, মুয়াখাই, লামনীগ্রাম, কাটাখাল গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কষ্টকর হয়ে পড়েছে ।
নিজপাট তিলকইপাড়া নয়াবাড়ি, জাঙ্গলহাটিসহ বিভিন্ন এলাকা এবং পশ্চিম গৌরিশংকর, ডিবির হাওর, কামরাঙ্গীখেল, বাইরাখেল, হর্নি, কালিঞ্জীবাড়ি, দিগারাইল, নয়াগাতি, বারগতি, হেলিরাই, গুয়াবাড়ি সহ আরোও অনেক এলাকায় পানি প্রবেশ করে। অনেকেই বসতঘরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চিকনাগুল ইউনিয়নের কাটুয়াকান্দি, কাপনাকান্দি, শিখার খাঁ এবং দরবস্থ ইউনিয়নের গর্দনা, কানজর ,শুকনপুর, হাখরপুর ও মহব্বত পুর গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষ যোগাযোগ করছেন নৌকা দিয়ে।

অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ও পাহাড়ী ঢলের কারনে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকটা ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছেন। পর পর বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যজীবিদের ফিসারীর মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। করোনা কালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কামাল আহমদ,উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সিনিয়র সাংবাদিক ও বৃহত্তর জৈন্তিয়া কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার আহমদ হেলাল, সাবেক ছাত্রদল নেতা আবুল হাসিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের হাতে গড়া সম্পুর্ণ লেজুরবৃত্তিমুক্ত স্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন ‘স্বতন্ত্র জোট’, আব্দুল্লা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, হাজী আস্রব আলী শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন, শিক্ষা-সাহিত্য-সামাজিক সংগঠন ‘বাতায়ন’ সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল আহমদের সাথে কথা বললে তিনি জানান,সরকারী ত্রাণ নিয়মিত বিতরণ চলিতেছে ।আমাদের উপজেলা থেকে একটা ফান্ড কৃষি অধিদপ্তরের কাছে দেওয়া হয়েছে যাতে করে তারা চারা উৎপাদন করে কৃষক দের কাছে হস্তান্তর করতে পারেন।
সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি সাংবাদিক গোলজার আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এবারের বন্যা ভয়াবহ এবং দীর্ঘমেয়াদী।পানিবন্দী মানুষ খুবই অসহায়ত্বভাবে দিন যাপন করছেন।মানুষের খাবার দাবার সংকট ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকা দুরুহ হয়ে পড়েছে।করোনাকালে বন্যা যেন মড়ার উপর খড়ার ঘা।তিনি বিত্তবান ও সমাজের স্বচ্ছল মানুষদের বানভাসী অসহায় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।