গ্রীসের মানোলাদায় প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য ভ্রাম্যমাণ কন্স্যুলার ও কল্যাণ সেবা

গ্রীসের মানোলাদায় প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য ভ্রাম্যমাণ কন্স্যুলার ও কল্যাণ সেবা

গ্রীস প্রতিনিধি: করোনাকালীন বিশেষ অবস্থায় প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক অধ্যুষিত পশ্চিম গ্রীসের মানোলাদা, লাপ্পা ও পিরগোজসহ আশেপাশের এলাকায় বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ ভ্রাম্যমাণ কন্স্যুলার ও কল্যাণ সেবা প্রদান করেছে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। এই লক্ষ্যে ২৩ ও ২৪ জুলাই মানোলাদার ফুটবল স্টেডিয়ামে একটি কন্স্যুলার ও কল্যাণ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এই ক্যাম্পে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট, সত্যায়ন সেবাসহ সব ধরনের কন্স্যুলার বিষয়ক সেবা এবং পরামর্শ গ্রহণ করেন। কন্স্যুলার ক্যাম্পে এই অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশীদের গ্রিসে বৈধ ডকুমেন্ট প্রাপ্তি সংক্রান্ত বিশেষ সেবা এবং আইনি পরামর্শ দেয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ সেবার জন্য এই ক্যাম্প উদ্বোধন করেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন। কন্স্যুলার ক্যাম্পের প্রাক্কালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। কন্স্যুলার ক্যাম্প এর আগে এই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্থানীয় মেয়রের সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত বৈঠক করেন। তিনি প্রবাসীদেরকে মেয়রের সাথে বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন। প্রবাসীদের কল্যাণে গ্রীসের স্থানীয় প্রশাসন যেসব আশ্বাস দিয়েছে, রাষ্ট্রদূত সে বিষয়ে প্রবাসীদের বিস্তারিত বলেন। এই করোনাকালীন অবস্থায় নিজেদের জীবনের জন্য স্বাস্থ্যবিধি এবং গ্রীক সরকারের আইন কানুন মেনে চলতে তিনি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত মুজিব বর্ষের কথা উল্লেখ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশের কল্যাণে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।
দূতাবাসের কাউন্সিলর সুজন দেবনাথ এবং অন্যান্য কন্সুলার কর্মকর্তাগণ কন্স্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করেন । প্রবাসী নেতৃবৃন্দ নিয়মিত কন্সুলার ক্যাম্প পরিচালনা করার জন্য দূতাবাসকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এই করোনাকালীন অবস্থায় এথেন্স থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দূরে প্রবাসীদের কাছে ছুটে এসে গভীর রাত পর্যন্ত সেবা প্রদানের জন্য তারা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তারা বলেন, যেসব প্রবাসী বাংলাদেশীদের গ্রীসে বৈধ ডকুমেন্টস নেই, তারা সেবা নিতে এথেন্স যেতে পারেন না; এমনকি এথেন্সে যাওয়ার প্রাক্কালে গ্রেফতার হবার সম্ভাবনা থাকে। করোনাকালীন অবস্থায় এথেন্সে যাওয়া আরও কঠিন। এ অবস্থায় দূতাবাসের ভ্রাম্যমাণ কন্স্যুলার সেবা একদিকে যেমন প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে সেবা গ্রহণের জন্য প্রবাসীদের এথেন্সে যাতায়াত ও বসবাসজনিত বিপুল অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। এতে করে প্রবাসী শ্রমিকরা অতি সহজে পাসপোর্টসহ সকল ধরনের কন্স্যুলার সেবা ভোগ করছেন। নিকটবর্তী অন্যান্য অঞ্চল যেমন লাপ্পা এবং পীরগোসেও ভ্রাম্যমাণ কন্স্যুলার সেবা পরিচালিত করার জন্য তারা দূতাবাসকে বিশেষ অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য এথেন্স থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাস নিয়মিত কন্স্যুলার সেবার আয়োজন করে থাকে। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার সরকারের লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দূতাবাস নিয়মিতই এথেন্স থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে কন্স্যুলার ও কল্যাণ সেবা প্রদান করে আসছে।
কন্স্যুলার সেবার শেষে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীগণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বিদায় উপলক্ষ্যে একটি সভা আয়োজন করে। প্রবাসীদের দোরগোড়ায় উন্নত সেবা পৌঁছে দেয়া, প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ এবং কূটনৈতিক সফলতার জন্য রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।