শফিউল বারি বাবুঃ তাঁর শূণ্যতা অপূরণীয়

শফিউল বারি বাবুঃ তাঁর শূণ্যতা অপূরণীয়

সৈয়দ আবদাল আহমদঃ  প্রিয় শফিউল বারী বাবু, মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর মেহমান হয়ে তাঁরই কাছে আপনি চলে গেছেন। দয়াময় মেহেরবান আল্লাহ আপনাকে বেহেশত নসীব করুন, আপনার ওপর শান্তি বর্ষন করুন — কায়মনোবাক্যে তাঁর কাছে এই দোয়াই করছি।
পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানসহ অনেক জায়গায় আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “প্রত্যেক প্রাণকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। ” অর্থাৎ মৃত্যু এক অমোঘ নিয়তি। এ পৃথিবীতে কেউই চিরকাল বেঁচে থাকবে না।
মৃত্যু হবেই — এটাই ধ্রুব সত্য। তবে বাবু, আপনার মৃত্যুর খবরটা পেয়ে আমি অনেকটা বাকরূদ্ধ হয়ে পড়েছি। আপনার সঙ্গে আমার হ্নদ্যতা এবং রাজনীতির ভালোমন্দ নিয়ে আড্ডার কথা কখনোই ভুলবার নয়। আমি আমার একজন একান্ত সুহৃদ, ভাই, বন্ধুকে হারালাম।
গত রাতে আপনারই এক স্নেহের ছোট ভাই ফরিদ আনোয়ার খান হাসপাতালে আপনার ভর্তি হওয়ার খবরটি জানায়। ফরিদকে বলি ইনশাআল্লাহ বাবু,আমাদের অতি প্রিয় ভাইটি ভালো হয়ে আমাদের মাঝে অচীরেই ফিরে আসবেন। কিন্তু আপনি যে চিরতরে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, সেটা কখনো মনে হয়নি।
রাতে আপনার অবস্থার অবনতি হলে অন্য একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে ভোরে আপনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
জিলহজ্জের রোজা পালনের জন্য সেহরি ও ফজরের নামাজ শেষে ঘুমিয়েছিলাম। তাই মৃত্যু সংবাদটি দেরিতে শুনেছি। সংবাদটি সত্যিই আমাকে শোক বিহব্বল করে দিয়েছে। এখন আপনার মাগফেরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করাই মুসলমান হিসেবে আমাদের অন্যতম কর্তব্য।
আপনার নিষ্পাপ ফুটফুটে দু’টি শিশু এবং আপনার প্রিয়তমা স্ত্রী বিথীকার কথাই বারবার মনে পড়ছে। মহান আল্লাহ তাদেরকে প্রচন্ড এই শোক সইবার তৌফিক দিন,আমীন। তাদের জানাই আমার সমবেদনা।
আহ, কী দুঃখজনক! ছোট ছোট দু’টি শিশু খুব অল্প বয়সে তাদের প্রাণপ্রিয় বাবাকে হারালো। এই সেদিনও দেখেছি বাবা-মায়ের সাথে লেকের পাড়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে একাকার হয়ে ওরা কত আনন্দেই না মেতেছিল!
প্রিয় বাবু, আপনার বয়স তো খুব বেশি হয়নি। পঞ্চাশের মতো হবে। কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই অল্প বয়সেই আপনি রাজনীতিকে মাতিয়ে গেছেন। একজন পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা হিসেবে গড়ে উঠে আপনার ভাবমূর্তি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হয়ে আপনি মানুষের সেবায় আরো বেশি নিবেদিত হন। আপনার পূর্বসুরী আরেক পরিচ্ছন্ন তরুন রাজনীতিক হাবিবুন নবী খান সোহেলের মতোই দলটিকে আগলে রেখেছেন মানে গুণে এবং জনপ্রিয়তায়।
করোনা মহামারির এই সংকটকালে আপনাদের দেখেছি মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকতে। দেখেছি গরীব দুঃখীদের মাঝে আপনারা খাবার নিয়ে, ওষুধ সামগ্রী নিয়ে দৌড়ে গেছেন।
বাবু, আপনি ভুলে যাননি আপনার রামগতি-৪ নির্বাচনী এলাকাকেও। সেখানেও খাবার ক্যাম্প এবং মেডিকেল ক্যাম্প করে মানুষের পাশে থেকেছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলে বাবু-জুয়েল জুটি বিএনপি রাজনীতিতে আলোচিত।
জেনে আরো ভালো লেগেছে, করোনা মহামারি আক্রান্তদের আপনারা শুধু খাদ্য এবং চিকিৎসা সহযোগিতাই নয়,করোনায় মৃতদের লাশ দাফনে এক অনন্য কাজও আপনারা করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশেষ টীমও গঠন করা হয়।
প্রিয় বাবু, আপনার বিনয়ী ও অমায়িক মুখখানি ভেসে উঠছে। কর্মীদেরকে আপনার মায়াভরা ডাক কানে বাজছে। শহীদ জিয়াকে উদ্বৃত করে আপনি বলতেন,” আপনারা নেতৃত্ব দিতে চান? আপনাদের জনগনের মাঝে যেতে হবে।” মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি বীরোত্বম জিয়াউর রহমানকে আপনি সবসময় বলতেন,”দ্য স্ট্যাটসম্যান”।
দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বলতেন,”খালেদা জিয়া এক আপোষহীন সংগ্রামের নাম।” বলতেন, “কারারুদ্ধ গনতন্ত্রের মা খালেদা জিয়া, অবরুদ্ধ বাংলাদেশ।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বে অবিচল থেকে সবসময় আপনি আশা করে উচ্চারণ করেছেন, ” বীরের বেশেই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।” সবসময় বাবু আপনার স্লোগান ছিল– “আর মানব না এই অনাচার, এই অবিচার।” শোষনের শৃংখল ভাঙতে কাফেলার বিশ্রাম নেই উল্লেখ করে কর্মীদের আপনি মুক্তির মিছিলে যোগ দিতে উজ্জীবিত করেছেন।
দুপুর দেড়টায় ফরিদ জানালো, আপনাকে আপনার গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের কাছে শেষ বারের মতো নেয়া হচ্ছে। সেখানেই আপনি চিরনিদ্রায় শায়িত থাকবেন। প্রিয় শফিউল বারী বাবু, আপনার শূন্যতা অপূরণীয়।