ইউএনও'র ওপর হামলা রাষ্ট্রের জন্য অশনি সঙ্কেত: ফখরুল

ইউএনও'র ওপর হামলা রাষ্ট্রের জন্য অশনি সঙ্কেত: ফখরুল

দেওয়ান নজরুল আলম.ঢাকা: ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে গুরুতর আহত করার ঘটনা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের জন্য অশুভ সঙ্কেত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ হামলার ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তিনি।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম এবং তার পিতার ওপর নির্মম হামলার ঘটনায় নিন্দা জানানোর কোনো ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, এ সরকার দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। আমি দুষ্কৃতিকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। গুরুতর আহত ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সন্ত্রাসকে আশ্রয় করেই নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাচ্ছে। বিরোধী দল ও মতকে দমন করে যাচ্ছে রক্তাক্ত কায়দায়। এখন সরকারি কর্মকর্তারাও এদের হিংস্রতার শিকার হচ্ছেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহাকে হত্যাসহ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে বর্তমান সরকার বিচার-বহির্ভূত হত্যা যেভাবে সংঘটিত করছে তাতে দুষ্কৃতকারীরা উৎসাহ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা যেই হোক ইতোপূর্বে যদি তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হতো তাহলে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্রমণের শিকার হতেন না। দেশে এখন আইন-কানুনের কোনো বালাই নেই। হত্যা, খুন, জখম, টাকা পাচার, মানব পাচার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোপাট, টেন্ডারবাজি ও জবরদস্তি কায়েমের মতো অনাচার আড়াল করতেই দেশব্যাপী দুষ্কৃতকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে রক্তাক্ত কর্মসূচির ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এরই সর্বশেষ শিকার হলেন ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম।
ফখরুলের বলেন, দেশে আইনের শাসনের বিলুপ্তি ঘটিয়ে, গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে নাৎসি কায়দায় দেশ পরিচালনার জন্যই এখন সন্ত্রাসবাদের দোর্দণ্ড প্রতাপ চলছে। দুর্নীতি ও রক্তাক্ত সন্ত্রাসের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত এই সরকার সারাদেশে অশান্তির বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে। যে দেশে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের দ্বারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে, সেদেশে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কত অনিশ্চিত তা ব্যাখ্যা করে বলার কোনো অবকাশ নেই।